Friday, December 23, 2022

ফিকশন ও নন-ফিকশন সাহিত্যের মধ্যে পার্থক্য



ফিকশন ও নন-ফিকশন সাহিত্যের মধ্যে পার্থক্য এই দুই বিষয়বস্তুর ব্যাপকতা প্রকাশ করে। আর, প্রথমেই বলে রাখি, ফিকশন শব্দটি ইংরেজির Fiction- শব্দের উচ্চারণের বাংলান্তর। ফিকশন শব্দের অর্থ কাল্পনিক। এবং, এক্ষেত্রে নন-ফিকশন শব্দটি দ্বারা বোঝানো হয় বাস্তবিক। অর্থাৎ যা বাস্তব থেকে নেয়া। এই নিবন্ধটিতে আমি চেষ্টা করবো আপনাদের সামনে তুলে ধরতে ফিকশন এবং নন- ফিকশন সাহিত্যের মধ্যে পার্থক্য।
যে সাহিত্যের উপাদানগুলো কাল্পনিক ভাবনা থেকে আসে, সেগুলোকে ফিকশন বলে। সাহিত্যে ফিকশন উপন্যাস পাওয়া যায়, আর দেখা যায় নাটক ও গল্প। ফিকশন বা কাল্পনিক সাহিত্যে উপাদান গুলো যেকোনো বাস্তব উপাদানের ভিত্তিতেও কল্পনায় নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে দেখা যায় ফিকশনটি বা কল্পনাকি বৈজ্ঞানিক হতে পারে, কিংবা অন্ধবিশ্বাস হতে পারে, হতে পারে একদম শুদ্ধ কল্পনাও; যাতে বাস্তবের কোনই উপাদান নেই।
ফিকশন সাহিত্য মানুষের কল্পনা শক্তিকে বাড়ায়ে দেয়। মানুষ তাঁর ভাবনার ভেতরে সাজাতে এবং বানাতে পারে নিজস্ব জগৎ। কাল্পনিক সাহিত্যের বিষয় কাল্পনিক হওয়া সত্ত্বেও সেগুলো মূলত বাস্তবের মানুষের জন্যই লেখা হয়। তাতে বেশির ভাগ সময় দর্শনই খুঁজে পাওয়া যায়, খুঁজে পাওয়া যায় নরতুন ভাবনা যা বাস্তব নয় তবে দেখায় এক নতুন বাস্তবের সত্তা।
তবে, এখন প্রশ্ন থাকে নন- ফিকশন কি? এই বিষয়েও ওপরের অংশে একটি বিষয় উল্লেখ করেছি। আর তা হল, যেহেতু ফিকশন মানে কাল্পনিক; সেহেতু নন- ফিকশন শব্দটি দাঁড়ায় বাস্তবিক সাহিত্যে। অর্থাৎ, যে সাহিত্যের উপাদান গুলো বাস্তব থেকে নেয়া এবং বাস্তবের সাথে পঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে মিলে যায়, সেগুলোকেই নন- ফিকশন সাহিত্য বলে।
নন- ফিকশন সাহিত্যে বিষয় বস্তুগুলো বাস্তব থেকে নেয়া। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বাস্তবে ঘটে গেছে এমন, অথবা ঘটে যায় এমন, অথবা ঘটছে এমন বিষয়বস্তু নিয়ে সাহিত্য রচনা করা হয়। নন- ফিকশন সাহিত্য আমাদের চারপাশের ঘটে যাওয়া বাস্তবকে সাহিত্যে ধরে রাখে। এক্ষেত্রেও ভাবনার বিষয়টা এক মাত্রার বাস্তবে স্থির থাকে না, হয়ে যায় বহুমুখি।
ফিকশন ও নন-ফিকশন সাহিত্যের মধ্যের পার্থক্যগুলো বিষয়বস্তু দুটির একটিকে অপরটির চেয়ে ছোট করে না। বরং, একে ওপরের মধ্যের পার্থক্যগুলো বিষয়বস্তু দুটির ব্যাপকতা বোঝায়। এই মুহূর্তে চেষ্টা করবো ফিকশন ও নন- ফিকশন সাহিত্যের মধ্যের পার্থক্য গুলো যতটা সম্ভব সহজ ভাবে তুলে ধরার।
ফিকশন সাহিত্য বা কাল্পনিক সাহিত্য আধুনিক সাহিত্যে এক নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। ফিকশন সাহিত্যের মাধ্যমে আমাদের কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটেছে; বিকাশ ঘটেছে লিখিত সাহিত্যের। কারণ, ফিকশন সাহিত্যে বিষয়বস্তু বাস্তবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। ফিকশন সাহিত্যে বিষয়বস্তু হতে পারে লেখকের একান্ত কাল্পনিক এবং সেখানে যেকোনো বস্তু দৃশ্যত হয় শুধুমাত্র লেখকের কল্পনা থেকে।
অপরদিকে, নন- ফিকশন সাহিত্যে বিষয়বস্তু থাকে বাস্তবের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে নন-ফিকশন সাহিত্যে মানুষ বাস্তবকে নতুন রূপে দেখে লেখকের ভাষার দক্ষতার মাধ্যমে । শব্দের ব্যাবহার এবং প্রত্যেক পঙ্কতিতে উঠে আসা বাস্তবতাকে নতুন করে ভাসিয়ে তোলে পাঠকের মনে। নন- ফিকশন সাহিত্যে অনেক সময় ফিকশনের মতো রুপকভাবেও দেখানো যায় বাস্তবতা।
ফিকশন সাহিত্য দেখায় মানুষের কল্পনার বাস্তবতা। আর, নন-ফিকশন দেখায় একজন মানুষের বাস্তবের ধারণা। তাঁর দেখা, শোনা এবং অনুভব করা দর্শন। ফিকশন সাহিত্য নন- ফিকশনের আরেকটি বর্ধিত রূপ। যখন মানুষ নন- ফিকশন সাহিত্যে নতুন ধারা উন্মোচন করতে পারেনা তখন তারা ফিকশন সাহিত্য রচনা করেন। আবার, নন- ফিকশন সাহিত্যে একটি নির্দিষ্ট সময়ের বর্ণনা উঠে আসে, এবং সময়ের কথা বলে এবং সেই সময়কার মানুষের জীবনাচরণ এবং বোধ-অনুভুতি তুলে ধরে।
ওপর দিকে একটি ফিকশন সাহিত্য একটি নতুন অনুভবের জন্ম দিতে পারে যা আগে কখনও অনুভব করা সম্ভব হয়নি। আর এই ভাবেই ফিকশন এবং নন- ফিকশন সাহিত্যের পার্থক্যগুলো একে ওপরের ব্যাপকতা প্রকাশ করে।
ফিকশন ও নন- ফিকশন সাহিত্যের ব্যাপকতা নিয়ে বলতে গেলে, বলে শেষ হবে না। কারণ, এই পুরো মহাবিশ্বের যেকোনো কিছুকে ফিকশন অথবা নন- ফিকশন ভাগে ভাগ করা যায়। আর, ফিকশন এবং নন- ফিকশন বিভাজন দুটি যে শুধুমাত্র একটা বিষয়বস্তুকে বাস্তব আর অবাস্তবে ভাগ করতে পারে; শুধু তাইই নয়। বাস্তব আর অবাস্তব পার্থক্যে বিশ্বাস-অবিশ্বাস এমনকি সত্য- মিথ্যাও নির্ভর করে।
ফিকশন বিষয়বস্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মানুষকে ভাবায়; আর যখন মানুষ এমন কোন নন- ফিকশন সাহিত্য পাঠ করে যা তাদের বাস্তবের মধ্যে পড়ে না, কিন্তু বাস্তব; সেক্ষেত্রে তারা আবার নতুন করে বাস্তবতা নিয়ে ভাবে। তো এই হল মূলত ফিকশন ও নন- ফিকশন বা কাল্পনিক ও বাস্তব বিষয়বস্তুর সাহিত্যের মধ্যে পার্থক্য এবং তাঁর ব্যাপকতা।
আশাকরি, যতটা সম্ভব সহজে আপনাদের কাছে ফিকশন ও নন- ফিকশন এর মধ্যে পার্থক্য বুকঝাতে পেরেছে।

শেয়ার করুন

0 comments: